জসিম উদ্দিন, ফুলগাজী।
ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নোয়াপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে মাদক প্রবেশ ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোর ও যুব সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সমাজে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলগাজী থানার অধীন মান্দারপুর, ফকিরখিল ও বদরপুর এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হয়ে ওঠায় স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট ছেলেদের মাঝেও মাদকের আসক্তি ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল জানান, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। অনেক পরিবার সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত না হলে এসব শিশু-কিশোর ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী নোয়াপুর বিজিবি ক্যাম্পের পাশাপাশি ফুলগাজী থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা, সন্দেহভাজন পথগুলোতে নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। একই সঙ্গে ফুলগাজী থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে মাদক বিরোধী গণসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ফুলগাজীর শিশু-কিশোরদের এই ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিজিবি ও ফুলগাজী থানা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে মাদকমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

