মোঃ রাজু হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার, রায়পুর উপজেলা
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর), ৫ মার্চ ২০২৬: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা-র ১নং চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দারগঞ্জ বাজারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সরকারি খালটি দখল, ভরাট ও অবৈধ স্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের দুই পাড়ে অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে ভরাটের ফলে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১নং চর আবাবিল ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের বৃষ্টির পানি ও জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম এই খাল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও নিয়মিত তদারকির অভাবে খালটি তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে। কোথাও কোথাও খালের ওপর সরাসরি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যা পানি চলাচলে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত বর্ষা মৌসুমে খালের পানি সঠিকভাবে বের হতে না পারায় হায়দারগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে অনেক মানুষের বসতবাড়িতে পানি উঠে যায়। পাশাপাশি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে পানের বর পানিতে তলিয়ে যায় এবং ধানের ক্ষেত, সয়াবিন, মরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতে খাল পুনঃখননের কথা বলে হায়দারগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পূর্ণাঙ্গ খনন কাজ হয়নি। আংশিক ও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কাজ করা হলেও তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সময়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ বা স্থাপনা বহাল রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে।
এলাকাবাসী ও কৃষকদের দাবি, খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পুনঃখনন কাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আবারও নয়টি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষি জমি, পানের বর ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

