, পত্নীতলা (নওগাঁ) | ২০ এপ্রিল ২০২৬
আব্দুল আজিজ নওগাঁ জেলা পত্নীতলা উপজেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক শহর নজিপুর। প্রতিদিনের যান্ত্রিক কর্মব্যস্ততার আড়ালে এখানে লুকিয়ে থাকে শত শত ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের ক্ষুধার আর্তনাদ। ঠিক সেই মানুষগুলোর মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে দেবদূতের মতো আবির্ভূত হয়েছেন এক তরুণ উদ্যোক্তা— মো. হারুন রশিদ। পেশায় তিনি স্থানীয় সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক হলেও, বর্তমানে নজিপুরবাসীর কাছে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘মানবতার পাহারাদার’ হিসেবে।
প্রতি সোমবার: ক্ষুধার্তদের জন্য এক উৎসবের দিন
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে নজিপুরে প্রতি সোমবার এক ভিন্নধর্মী দৃশ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুপুর গড়াতেই পৌর এলাকার ভিক্ষুক, মানসিক ভারসাম্যহীন এবং অতি দরিদ্র মানুষগুলোর গন্তব্য হয়ে ওঠে সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সম্মুখভাগ। সেখানে কোনো আভিজাত্যের দেয়াল নেই, নেই কোনো কৃত্রিমতা। হারুন রশিদ নিজ হাতে এই অবহেলিত মানুষগুলোর মাঝে উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করছেন।
অভাবের তাড়নায় যাদের দিন কাটে আধপেটা খেয়ে, হারুন রশিদের এই উদ্যোগ তাদের কাছে যেন মরুভূমিতে মরূদ্যান। কেবল অন্ন দান নয়, এই মানুষগুলোর প্রতি তাঁর যে শ্রদ্ধা ও মমতা, তা পুরো এলাকায় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে সামাজিক বিপ্লব
এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. হারুন রশিদ বলেন:
“মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটি আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি। আমরা যারা সামর্থ্যবান, তারা যদি আমাদের পাশের অসহায় মানুষটির কথা একটু ভাবি, তবে এই সমাজটা পাল্টে যাবে। এটি কোনো দান নয়, এটি আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা। ইনশাআল্লাহ, আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমৃত্যু প্রতি সোমবার অব্যাহত থাকবে।”
অনুপ্রেরণার উৎস নজিপুর
হারুন রশিদের এই মহতী উদ্যোগের ঢেউ লেগেছে স্থানীয় সুধী সমাজের মনেও। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে একজন ব্যক্তি যে কতটা পরিবর্তন আনতে পারেন, হারুন রশিদ তার জীবন্ত প্রমাণ। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নজিপুরের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
এক নজরে মানবিক কর্মসূচি: ‘তৃপ্তির আহার’
উদ্যোক্তা: মো. হারুন রশিদ (পরিচালক, সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার)।
কর্মসূচির সময়: প্রতি সপ্তাহের সোমবার (দুপুর)।
স্থান: সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাঙ্গণ, নজিপুর, পত্নীতলা।
উপকারভোগী: ছিন্নমূল, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।
উদ্দেশ্য: ক্ষুধার্তদের মুখে অন্ন ও মনে শান্তি ফিরিয়ে দেওয়া।

