ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকায় অবস্থিত চিলাহাটি ফাযিল মাদ্রাসায় এসএসসি (দাখিল) ২০২৬ পরীক্ষাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরমফিলাপের টাকা জমা দেওয়ার পরও এক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ না হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার। তার পিতা আব্দুল মতিন ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তার মেয়ে সুমাইয়া আখতার (১৬) দাখিল পরীক্ষার ফরমফিলাপের জন্য মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক ইব্রাহিম হোসেনের কাছে ২,৭০০ টাকা জমা দেয়। শিক্ষক তখন তাকে জানান, ফরমফিলাপ সম্পন্ন হয়েছে।
কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) সংগ্রহ করতে গেলে সুমাইয়া জানতে পারে তার ফরমফিলাপই হয়নি। ফলে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এতে তার একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ইব্রাহিম হোসেন অফিসে টাকা জমা দেননি বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় সুমাইয়ার পরিবার শিক্ষকটির বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেছে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ ইব্রাহিমকে অবরুদ্ধ করে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও শিক্ষক ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে শোকজ করলেও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়।

