ফখরুদ্দিন হৃদয়। ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
কাগুজে অভিজ্ঞতার অন্তরালে বেপরোয়া সিন্ডিকেট। বছরের পর বছর নির্লিপ্তভাবে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার পরও আমলাতান্ত্রিক পাতানো ফাঁদের কবলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি রোগীরা হচ্ছে সেবা বঞ্চিত। হা বলছিলাম শৈলকুপা সরকারি হাসপাতালের খাদ্য তালিকার কথা। টেন্ডার আহ্বানের সময় অতি কৌশলে ৩ বছর অভিজ্ঞতার সাফাই গেয়ে বিজ্ঞাপন সাঁটানো হয়েছে। মূলত বিগত আমলের সাজানো সুবিধা পদ্ধতিকে সহজে কাজে লাগানোর অসৎ উদ্দেশ্যে আমলাগণ নানা জটিলতা সৃষ্টি করেছে। পূরনো বোতলে নতুন মদের মতই ব্যবসায়ীক চিন্তা মাথায় নিয়ে দরপত্র আহ্বানে উল্লেখ করা হয়েছে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন, যাতে নতুন রাজনৈতিক যুগের কেউ টেন্ডার দাখিল করতে না পারে। অভিজ্ঞদের শুধু একটা অভিজ্ঞতা আজ শেয়ার করছি –
প্রতি রোগীর খাবার রান্নার খরচ হিসাবে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম গ্যাস বরাদ্দের ৩২ টাকা হিসাবে ৫০ জনের ১৬০০ টাকার জ্বালানি বরাদ্দ করেছে সরকার (ভাবতে পারেন)। অর্থাৎ প্রতিমাসে রান্নাঘরের গ্যাস বরাদ্দ ৪৮ হাজার টাকা, যা বছরে ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বিজ্ঞ কৌশলী ঠিকাদার। অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের পরম যত্নের এ হিসাবটি শাল কাঠের মত হিরপাকা টেবিলে বসে অংক কষে দেন একজন অভিজ্ঞ আমলা। সেকারনেই এবছর পুরনোদের সাথে পিড়িত রাখতে একলাইন বাড়িয়ে লিখেছেন হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহ করতে ৩ বছরের অভিজ্ঞতার কাগজপত্র দেখাতে হবে। এতে ১ঢিলে দুই পাখি শিকার হবে, একদিকে যেমন পুরনো আমলাদের সাথে পুরনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতীত হিসাব নিকাশ ঝামেলাবিহীন ঠিক থাকবে, অন্যদিকে তেমনি নতুন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দরপত্র আহ্বান থেকে দূরে থাকবে এবং সরকারি অর্থ সাবার করা যাবে।
বিষয়টি ছোট হলেও দেশব্যাপী হিসাব করলে ছোট নয় বরং বিরাট অর্থনীতির সুক্ষ্ম রাজনীতি।
প্রশ্ন রাখতে চাই-
মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালের শুধু জ্বালানি গ্যাসের যদি এই অবস্থা হয় তবে ১০০, ২৫০ বেড, মেডিকেল কলেজসহ সারাদেশের সরকারি হাসপাতালের দূর্ণীতি রুখবে কে?

