আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় আছিয়া খাতুন(১৬) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ভিজিএফ কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ধর্ষণের চেষ্টায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আছিয়া উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভেন্ডিটারী গ্রামের এক দিনমজুর হাফিজুল ও শাহেরা দম্পতির শারীরিক প্রতিবন্ধি কন্যা।
নাগেশ্বরী থানায় ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আছিয়ার মায়ের দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন গত ১৬ মে শনিবার সকাল ১০টার দিকে আছিয়ার বাবা- মা বাড়ির পাশে ধানের জমিতে মুড়া কাটতে যায়। এ সময় পাশের এলাকার গোসাইবাসা গ্রামের মৃত কেতু মামুদের ছেলে অভিযুক্ত ধান ব্যবসার পাইকার রফিকুল ইসলাম (৫২) আছিয়াদের বাড়িতে প্রবেশ করে আছিয়াকে সরকারি ভিজিএফ চালের কার্ড করে দেয়ার কথা বলে তার কাছে তার বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চায়। প্রতিবন্ধী আছিয়া ঘরের সুকেজ ও ড্রয়ার থেকে ভোটার আইডি কার্ড বের করতে গেলে রফিকুল ইসলাম অসৎ উদ্দেশ্যে তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় আছিয়া চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসতে পারে এমন ভয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সত্যি সত্যিই আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এসময় প্রতিবন্ধী আছিয়ার কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা তার বাবা-মাকে খবর দেন। মা-বাবা বাড়ি ফিরলে ভুক্তভোগী আছিয়া পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
পুরো ঘটনা শুনে আছিয়ার মা সাহেরা বেগম এ ঘটনার বিচার ও কঠিন শাস্তি করে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী আছিয়ার বাবা হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ের সাথে এমন জঘন্য কাজ করা হয়েছে। আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। আমরা এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লা হিল জামান (ওসি) জানান, অপরাধীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

