• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • ত্রিধা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস কাণ্ড: কোটি টাকার অভিযোগে মূল হোতা বিপ্লব-রনি-আব্দুল্লাহ 

     swadhinshomoy 
    05th Apr 2026 10:18 am  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    রাজধানী ঢাকাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বিদেশে চাকরি, ভিসা প্রসেসিং ও ট্যুর প্যাকেজের প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ত্রিধা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সংশ্লিষ্টরা বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে রয়েছেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিপ্লব ভট্টাচার্য (📞 01618-842817, +8801837547061), সহযোগী হিসেবে পরিচিত রনি (📞 01823-932792), মাশুক (📞 +8801672174905) এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুতি (📞 01799565570, 01799568090) বিদেশে পাঠানোর নিশ্চয়তা দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেন। বিপ্লব ভট্টাচার্য–এর স্থায়ী ঠিকানা: দক্ষিণ হীংজাগিয়া, ডাকঘর: হীংজাগিয়া–৩২৩০, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুতি–এর ঠিকানা: গ্রাম: ছোট বহুলা, পোস্ট: রিচি–৩৩০০, হবিগঞ্জ সদর, হবিগঞ্জ

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুরুতে নিয়মিত যোগাযোগ, দ্রুত ভিসা প্রদান ও বিদেশে কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো ভিসা, টিকিট বা বৈধ কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি। একপর্যায়ে অফিস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ বা অচল হয়ে পড়ে।

    দৈনিক স্বাধীন সময়–এর অনুসন্ধানী টিম রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোড, ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ার–এ অবস্থিত ত্রিধা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস–এর কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখে, অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ। আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। মালিক বা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

    অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিধা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, ত্রিধা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আশীর্বাদ স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি এবং আশীর্বাদ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রথমে মৌলভীবাজার এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে পরে ঢাকায় এসে নতুন নামে একই ধরনের প্রতারণা অব্যাহত রাখা হয়।

    ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সার্বিয়া সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। অনেকেই জমি বিক্রি, সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ঋণ নিয়ে এই টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা কোনো সেবা পাননি। বরং টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং পরে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “আমরা বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমরা নিঃস্ব। ফোন বন্ধ, অফিস বন্ধ—কোথাও কোনো খোঁজ নেই।” আরেকজন বলেন, “আমাদের মতো শত শত মানুষ প্রতারিত হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

    এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মচারী কয়েক মাস কাজ করার পরও বেতন পাননি এবং অফিস ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ বকেয়া রেখে বিভিন্ন স্থানে অফিস বন্ধ করে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীর পল্টনের শাওন টাওয়ার–এ পরিচালিত ত্রিধা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল–এর অফিস এবং পল্টন চায়না হাট সংলগ্ন ভবনের ৫ম তলায় অবস্থিত তানিয়া এয়ার ইন্টারন্যাশনাল–এর কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া অফিসের কথাও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এই ঘটনার কেন্দ্রে থাকা তিনজনকে ভুক্তভোগীরা “মূল প্রতারক” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত বিপ্লব ভট্টাচার্য, যিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেনে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। লেনদেন ও ডকুমেন্ট প্রসেসিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুতি–এর বিরুদ্ধে, যার কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে সমন্বয়কারী হিসেবে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রাথমিক আলোচনা এবং বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে রনি–এর বিরুদ্ধে।

    সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চক্রটি প্রকাশ্যে কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও আড়ালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে আবারও নতুন করে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং সম্মিলিতভাবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে বিপ্লব ভট্টাচার্য–এর ব্যবহৃত 01618-842817 এবং +8801837547061, রনি (01823-932792) এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুতি (01799565570, 01799568090)–এর নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভুক্তভোগীরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। যারা এই ঘটনার শিকার হয়েছেন বা এ বিষয়ে তথ্য দিতে চান, তারা দৈনিক স্বাধীন সময়–এর সঙ্গে ০১৪০৭০২৮১২৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। ঘটনার তদন্ত ও সত্যতা যাচাই এখন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করছে।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    April 2026
    S M T W T F S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    2627282930