মোঃ নাজিম উদ্দিন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে লটকন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কৃষক এমারত সহ অনেকেই, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারও দখল করেছে এ ফল। ঘুচে যাচ্ছে বেকারত্বের গ্লানিও।
কৃষি অফিস বলছে কম খরচ ও কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় প্রতি বছর এ ফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড করইতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় , মো. এমারত নামে এক কৃষকের বাগানে থোকায়-থোকায় ঝুলে আছে টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন। এবছর আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো ক্ষতি হয়নি তার লটকন বাগানের ফলনও হয়েছে আগের বছর তুলনায় অনেক বেশি। গত বছর তিনি ২৫ টি গাছের লটকন বিক্রি করেছিলেন ৩ লক্ষ টাকা, এবার ফলন বেশি হওয়ায় ৪ লক্ষ টাকা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। তেলিহাটি ইউনিয়নের মোঃ ইকবাল হাসান কাজল প্রতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকার লটকন বিক্রি করেন। ভিটামিন-সি, প্রোটিন ও ক্যালরি যুক্ত মুখরোচক এ ফল পেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক এমারত। বাজারজাতকরণের আগ মুহূর্তে নানা পদ্ধতিতে পোকামাকড় দূর করছেন।
একই চিত্র দেখা যায় উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের , বেলতলী গ্রামে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার করইতলা, বেলতলী, শিলিগুড়ি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করছে চাষীরা। তবে কম খরচে, কম সময়ে ভালো ফলন ও অধিক লাভ হওয়ায় প্রতি বছর এ ফল আবাদে দিন দিন চাষীর সংখ্যাও বাড়ছে।
উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব লটকন চাষি জালাল বলেন, আমার বাগানে ১২০টির মতো লটকন গাছ আছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলনও খুব ভালো হয়েছে। লটকন ছায়ার মধ্যে হয়। খরচ কম হয়। ফুল আসার সঙ্গে একটু পানি ব্যবহার করতে হয়। লটকন গাছে থাকা অবস্থায় স্থানীয় পাইকাররা চাষীদের কাছ থেকে বাগান কিনে নেয়।
একই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব করিম বলেন, আমি নিজেও লটকন বাগান করেছি। আশপাশের অনেকেই এ ফলটির চাষ করেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে লটকন চাষ করে আলহামদুলিল্লাহ আমি বেশ লাভবান।

