মোঃ সালাউদ্দীন, চট্টগ্রাম (হাটহাজারী) প্রতিনিধি:
এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্যোগে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো একটি “রাইস গার্ডেন” স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া প্রযুক্তি গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে বোরো মৌসুম উপযোগী ৫৬টি ধানের জাত নিয়ে এই প্রদর্শনী গড়ে তোলা হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম, যা কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের পরিকল্পনায় দেশের প্রায় ১৫টি প্রযুক্তি গ্রামে একই ধরনের রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের কাছে উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া, মাঠ পর্যায়ে বাস্তব ধারণা তৈরি করা এবং উন্নত ধান চাষে উৎসাহিত করা।
রাইস গার্ডেনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত বিভিন্ন ধানের জাত প্রদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান১০৮ ও ব্রি ধান১০২, স্বল্পমেয়াদি ব্রি ধান৮৮, জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান১০০, ডায়াবেটিক উপযোগী ব্রি ধান১০৫ এবং ব্লাস্ট প্রতিরোধী ব্রি ধান১১৪। মোট ৫৬টি জাত একই মাঠে পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা সহজেই গাছের বৃদ্ধি, উচ্চতা, শীষের গঠন, রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ফলনের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এই উদ্যোগ ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই বহু কৃষক ও আগ্রহী ব্যক্তি রাইস গার্ডেন পরিদর্শনে আসছেন। কৃষক মো. রফিকুল ইব্রাহিম বলেন, “একসাথে এতগুলো ধানের জাত দেখে বাস্তব ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উপযোগী জাত নির্বাচন করতে সহায়তা করবে।”
ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছাঃ আমিনা খাতুন জানান, এই রাইস গার্ডেনের মাধ্যমে উন্নত জাতের ধান চাষাবাদ সম্প্রসারণ সহজ হবে, যা উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধানের জাতের কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, রাইস গার্ডেন একটি জীবন্ত গবেষণা ক্ষেত্র, যেখানে একসাথে বহু জাতের ধান পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা সম্ভব। ব্রি এখন পর্যন্ত বোরো মৌসুমে চাষাবাদের উপযোগী ৬১টি ধানের জাত অবমুক্ত করেছে, যার মধ্যে ৫৬টি জাত এই প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রাইস গার্ডেন কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর প্রদর্শনী ও শিক্ষণীয় ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

