সেলিম রেজা, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।।
বিরল স্থলবন্দর সড়ক সংলগ্ন আল-জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা- পাকুড়া এর ছাত্র বলাৎকারের ঘটনাকে ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী কিছু লোকের মাধ্যমে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার কে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে বাধ্য করা হচ্ছে ।
ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভূক্তভোগী ছাত্রের পরিবার খবর পেয়ে মাদ্রাসায় পৌঁছার পূর্বেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গোপনে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে ভূক্তভোগী ছাত্রের শারিরীক সমস্যা দৃশ্যমান হলে দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার পর্যন্ত ঐ শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সিনগাঁ গ্রামের মোঃ আব্দুল বারেক এর ছেলে মোঃ আজমাইন (২৮)। তিনি গত এক বছর যাবৎ ঐ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় ০২ দিন গত হয়ে গেলেও ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ করা হয়নি। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ভূক্তভোগীর পরিবার কে কোথাও অভিযোগ না করার জন্য বাধ্য করে রাখা হয়েছে বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ তুলেছে। এছাড়াও এই বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
জানা গেছে ঘটনার পর থেকে অভিভাবকদের মনে সন্তানদের নিয়ে তৈরী হয়েছে নানান সংশয়। এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সচেতন অভিভাবকগণ মাদ্রাসা থেকে নিয়ে চলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এখন ব্যাস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠো ফোনও বন্ধ পাওয়ায় কোন মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ভূক্তভোগীর পরিবারের নিকট এ বিষয়ে জানতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া হলে ছেলের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্নতা ব্যাক্ত করে প্রয়োজন হলে পরে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

