দেশের পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে ২১ এপ্রিলের দিকে তাপপ্রবাহ প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে পিরোজপুর, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লাসহ ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বেশ কিছু এলাকা। এসব স্থানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে এবং মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অনুভূত হতে পারে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু অংশ, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় তাপপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাপমাত্রা ও গরম বাতাসের প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, ফলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও মাথা ঘোরার ঝুঁকি বাড়বে।
গরমে নিরাপদ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা বা টুপি ব্যবহার, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা, দুপুরে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ওআরএস বা তরল খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমিভাব, দুর্বলতা ও অচেতন হয়ে পড়া উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে পানি পান করিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পূর্বাভাসটি দিয়েছেন আবহাওয়া গবেষক মো. ওবায়দুল্লাহ, পিরোজপুর থেকে। ২০ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০টা ৪০ মিনিটে সর্বশেষ এই তথ্য হালনাগাদ করা হয়।

