সাংবাদিক মোঃ জাহিদ হোসেন
গরমের দিনে স্বাদ ও প্রশান্তি দুটোই মেলে এই নরম, রসালো তালের শাঁসে
গ্রীষ্মের দাবদাহে দেশি ফলের বাজার এখন বেশ জমজমাট। ইতোমধ্যেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি নানা ফল। এর মধ্যে কচি তাল বা তালের শাঁস অন্যতম।
গরমের দিনে স্বাদ ও প্রশান্তি দুটোই মেলে এই নরম, রসালো তালের শাঁসে। শুধু স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও এটি গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় একটি ফল।
কী নেই তালের শাঁসে?
পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কচি তালের শাঁসে থাকে প্রায় ২৯ কিলোক্যালরি শক্তি, প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি জলীয় অংশ, শর্করা প্রায় ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, খাদ্য আঁশ, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-সি। এই উচ্চ জলীয় উপাদান গরমে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।
গরমে শরীরে প্রশান্তি
তালের শাঁসের বড় একটি উপকারিতা হলো এটি শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে। প্রচণ্ড গরমে ঘাম ও ক্লান্তির কারণে শরীরে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা কিছুটা পূরণে এই ফল ভূমিকা রাখে।
পেট ভরে ও হজমে সহায়তা করে
তালের শাঁসে থাকা প্রাকৃতিক জেল জাতীয় উপাদান খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে, ফলে অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা খাদ্য আঁশ হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে।
শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে
তালের শাঁসে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে গরমে দুর্বলতা, ক্লান্তি বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি কিছুটা কমে।
আরও যেসব কার্যকারিতা রয়েছে
এই ফলটি আয়রনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি ও বি-কমপ্লেক্স থাকায় এটি দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
অনেকেই মনে করেন, তালের শাঁস লিভারের কার্যকারিতা সমর্থন করতে এবং শরীর থেকে কিছু টক্সিন বের করতে সহায়তা করতে পারে।
ত্বক ও চুলের যত্নেও গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা
নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে এই ফল খাওয়ার ফলে ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা পুষ্টিবিদদের।
গরমে তালের শাঁস নিঃসন্দেহে একটি জনপ্রিয় ও উপকারী দেশি ফল। তবে যেকোনও খাবারের মতোই এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

