শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মোঃ দিলুয়ার হোসেন
গ্রামবাংলার নারীরা যে কেবল গৃহস্থালি কাজেই সীমাবদ্ধ নন, তার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নং বাহাড়া ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের মোছাঃ বেদনা বেগম। ১৬ এপ্রিল ( বৃহস্পতিবার ) ভাটগাঁও সংলগ্ন ‘বাড় গাং’-এ বড়শি দিয়ে তিনি শিকার করেছেন ৯ কেজি ওজনের বিশালাকৃতির এক চিতল মাছ।
কোনো আধুনিক সরঞ্জাম বা দামী জাল নয়, বরং সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ‘শামুকের লোদা’ টোপ হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এই বিশাল চিতল মাছটি বড়শিতে আটকাতে সক্ষম হন। বেদনা বেগম জানান, প্রতি বছরই তিনি এই মৌসুমে মাছ ধরেন। চলতি মৌসুমে এটি তার ধরা পঞ্চম চিতল মাছ। সাধারণত প্রতি বছর তিনি ৮ থেকে ১০টি বড় সাইজের চিতল শিকার করে থাকেন।
বেদনা বেগমের এই মাছ শিকার কেবল শখ নয়, বরং জীবনযুদ্ধের এক কঠিন লড়াই। তার নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বনই হলো বড়শি দিয়ে মাছ শিকার। এই কাজের মাধ্যমেই তিনি তার সন্তানদের লালন-পালন ও সংসারের চাকা সচল রাখছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বেদনা বেগম বলেন:
”বড়শিতে মাছ ধরা শুধু আমার নেশা নয়, এটাই আমার বেঁচে থাকার পথ। আমি অভাবী মানুষ, কোনো জমিজমা নেই। এই বড়শি দিয়ে মাছ মেরেই সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই।”
বিশালাকৃতির এই রূপালি চিতলটি ডাঙ্গায় তোলার পর তা দেখার জন্য উৎসুক গ্রামবাসীরা ভিড় জমান। পরে মাছটি দামপুর গ্রামের এরশাদ মিয়ার কাছে ৯,০০০ টাকা মূল্যে (প্রতি কেজি ১,০০০ টাকা দরে) বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়রা বেদনা বেগমের এই অদম্য সাহস ও দক্ষতাকে নদীমাতৃক বাংলাদেশের এক সংগ্রামী নারীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন। মৌসুমের বাকি সময়ে আরও বড় মাছ শিকার করতে পারবেন বলে আশাবাদী এই সাহসী নারী।

