আল মিরাজ
নীলফামারী প্রতিনিধি
গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এখন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ক্লিনিক যেন কিছু দায়িত্বহীন কর্মচারীর খেয়ালখুশির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বরত কর্মীরা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো সেবা প্রদান করছেন। নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক খোলা হয় না, অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিত থাকেন না। ফলে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওষুধ নিতে গেলে অনেক সময় জানানো হয়—“ওষুধ নেই”। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৯টা থেকে ক্লিনিক চালু হওয়ার কথা থাকলেও কালীগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিল। আবার নির্ধারিত সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আগেই ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এছাড়াও উপজেলার কয়েকটি ক্লিনিকে রাতভর বিদ্যুতের বাল্ব জ্বালিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারি সম্পদের অপচয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। একদিকে যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের এমন অপব্যবহার জনমনে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।
সরকার গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু কিছু দায়িত্বহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সেই উদ্যোগ ম্লান হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জনগণের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুজ্জামান জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সচেতন মহলের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক ।

