নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) ডিলারশিপ প্রদান করা হয়। কিন্তু এই সেবামূলক কার্যক্রমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর জালিয়াতি চক্র। বাস্তব কোনো মুদি দোকান না থাকা সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স। আর সেই ‘কাগজে-কলমে’ থাকা দোকানের বিপরীতে বাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে টিসিবির ডিলারশিপ লাইসেন্স।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মচারীদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুদি দোকানের ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করছেন। আইন অনুযায়ী নিজস্ব দোকান ও স্থায়ী ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এসব লাইসেন্স গ্রহীতাদের বাস্তবে কোনো ব্যবসায়িক অস্তিত্ব নেই। অভিনব কায়দায় তারা কেবল লাইসেন্স পাওয়ার স্বার্থে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করছেন।
চক্রটির মূল উদ্দেশ্য ডিলারশিপ পাওয়ার পর তা নিজে পরিচালনা না করে উচ্চমূল্যে অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া। নিয়ম অনুযায়ী টিসিবির লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নয়, কিন্তু তদারকির অভাবে এক ব্যক্তির লাইসেন্স ব্যবহার করছে অন্য পক্ষ। শুধু তাই নয়, ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে তারা নিয়মিত তাদের কথিত ব্যবসার স্থান ও বাসস্থানের ঠিকানা পরিবর্তন করছেন। দৈনিক পত্রিকার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত কয়েক মাসেই বেশ কয়েকজন ডিলার তাদের নামমাত্র ঠিকানা কয়েক দফা বদল করেছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
এই অনিয়মের ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের ভর্তুকি দেওয়া পণ্য কালোবাজারে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন ও টিসিবি কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছেন কর্তৃপক্ষ।

