মুহিবুল হাসান রাফি, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম:
“জলবায়ুর সুবিচার, এখানেই এখনই”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারাবিশ্বে পালিত জলবায়ু ধর্মঘটের অংশ হিসেবে ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবিতে ২৮টি যুব ও পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বৈশ্বিক ফ্রাইডেস’স ফর ফিউচার আন্দোলন এবং ব্রাজিলে চলমান কপ–৩০ এর সাথে সংহতি প্রকাশ করেই এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
ইকো নেটওয়ার্ক গ্লোবাল-এর ট্রেনিং ও ক্যাম্পেইন লিড ঈসমাইল হোসেন মেহেরাজ এবং নোবডি টু সামবডি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফয়েজ সাদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই জলবায়ু ধর্মঘটে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, উদ্ভিদবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম. এ. গফুর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম-এর প্রাক্তন পরিচালক নাসিম ফারহানা শিরিন, সাংবাদিক আবসার মাহফুজ, পরিবেশ চিন্তক আব্দুল্লাহ নূর ই মোস্তফা, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম-এর সিনিয়র কেমিস্ট রুবাইয়াত তাহরীম সৌরভ, এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার, ইপসা’র প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর সেতার রুদ্র, আবু হানিফ নোমান, ফারাহ তাবাসসুম, হারিসা খানম সুখি প্রমুখ।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম বলেন- “সকল উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পৃথিবীর প্রাণ ও প্রকৃতি ক্রমেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তেল, গ্যাস ও কয়লার উপর নির্ভরতা কমিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।”
উদ্ভিদবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম এ গফুর বলেন- “পরিবেশ রক্ষার প্রথম দায়িত্ব আমাদেরই। সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা এবং মানবাধিকার ও সাম্যের মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে জলবায়ু সংকট সমাধান করতে হবে।”
জলবায়ু ধর্মঘটে অংশগ্রহনকারী সংগঠনগুলো হলো- লাল সবুজ সোসাইটি, ১ টাকায় বৃক্ষরোপণ, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা), কসমিক স্পোর্টস এন্ড হেলথ ক্লাব, এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম, নোবডি টু সামবডি, ওএবি ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম, কনজিউমার এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব), অপর্চুনেট বাংলাদেশ, ইয়ুথ ফর পলিসি, বি ফর বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেইঞ্জমেকার আইওয়াইসিএম—চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার, ব্ল্যাক টু ব্লু সোসাইটি, ইউনিটি স্পার্ক, বিডি ক্লিন চট্টগ্রাম, ইকো-নেটওয়ার্ক গ্লোবাল, এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশন, রাইজ আপ, ইকো রেভোলিউশন, কজাগ্রত যুব সামাজিক সংঘ, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ওয়াইএএসডি), ইয়ুথ পিপল অফ বাংলাদেশ, ওয়াইসিএসবিএস, ইয়ুথ এলায়েন্স ফর সাসটেইনেবল ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, রক্তিম বাতিঘর, ফুটন্ত ফুলের আসরসহ ২৮টি সংগঠন।
উল্লেখ্য, কর্মসূচিতে তরুণরা চট্টগ্রামের “ফুসফুস” হিসেবে পরিচিত সিআরবি অঞ্চলটিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নমুক্ত রাখার জোর দাবি জানান। তারা বলেন—এ এলাকা সকলের জন্য উন্মুক্ত ও ফি–মুক্ত রাখতে হবে।

